বলরাম দাশ অনুপম:

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব কক্সবাজার সদর উপজেলায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে শহরের লালদিঘীর পাড়স্থ ব্রাহ্ম মন্দিরের শ্রী বিভূতিভূষণ সেন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পী শর্মার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বলরাম দাশ অনুপমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র কর্মকর্তা মাস্টার সুবল চন্দ্র দে, অ্যাডভোকেট ছোটন কান্তি শীল, মাস্টার পিকলুময় পাল, সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুজন শর্মা, খুরুশকুল ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কফিল দে অশোক, চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুরেশ শর্মা, ঝিলংজা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক তুষার কান্তি ধর ও রামু উপজেলা পূজা কমিটির নেতা রাজীব পাল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তা পরিধন কান্তি দে ও সাজু দাশ এবং খুরুশকুল ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দোলন কান্তি দে। এছাড়া সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রতিমা পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য দেন।

সভায় বিগত দিনে প্রয়াত ব্যক্তিদের আত্মার সদ্গতি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভার শুরুতে পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন ভারুয়াখালী হরিমন্দিরের ছোটন কান্তি দে।

সভায় বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহামিলন। মা দুর্গা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, অসত্যকে প্রত্যাখ্যান এবং দুর্বলকে রক্ষা করার শক্তির প্রতীক।

ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্য ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপ্রমাণিত খবর বা গুজব দেখে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। ‘আগে যাচাই, পরে বিশ্বাস’—এই নীতি মেনে চলতে হবে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় জেনারেটর ও বিকল্প ব্যাকআপ লাইটের ব্যবস্থা, সুনির্দিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।